গল্প

আমার ভাই আমার পৃথিবী

কাব্যকলি
  • ০৩-১১-২০২৫

আমার ভাই আমার পৃথিবী

স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেছে। তবুও নাহিদার মনে কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি বলেন, থাক, স্বামী তার নতুন বউকে নিয়ে সুখে থাকুক। আমি চাই না তার বাড়ি, তার সংসার। আমার পৃথিবী তো আমার ভাই।


সুলেখা আক্তার শান্তা


নাহিদা দিনরাত ছুটে চলেছে তাঁর অসুস্থ ভাইকে নিয়ে। ভাইটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, আর তার চিকিৎসার ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে সে। নাহিদা বলেন, আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে ভাইয়ের চিকিৎসা করাবো। দরকার হলে নিজের কিডনি বিক্রি করব, তবুও ভাইকে সুস্থ করে তুলব। তার চোখে একটাই প্রার্থনা— হে আল্লাহ, আমার ভাইকে সুস্থ করে দাও। দরকার হলে আমার জীবন নিয়ে নাও, কিন্তু ভাইয়ের জীবনটা ফিরিয়ে দাও।

নাহিদার জীবনের সবকিছু যেন কেন্দ্রীভূত তার অসুস্থ ভাই আবিরকে ঘিরে। সংসার, স্বামী, সামাজিক সম্পর্ক, সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ভাইকে সুস্থ করে তোলা।

স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেছে। তবুও নাহিদার মনে কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি বলেন, থাক, স্বামী তার নতুন বউকে নিয়ে সুখে থাকুক। আমি চাই না তার বাড়ি, তার সংসার। আমার পৃথিবী তো আমার ভাই।

আবির কাঁপা কণ্ঠে বলে, আপা, তুমি আমার জন্য আর কত করবা? তোমার নিজের সংসারটাই তো হারিয়ে ফেললে আমার জন্য। নাহিদা মৃদু হাসে বলেন, ভাই, তুই আফসোস করিস না। আমার নসিবে যা লেখা ছিল তাই হয়েছে। আবির চোখ ভিজিয়ে বলে, আপা, আমি ভাগ্যবান যে তোমার মতো বোন পেয়েছি। তুমি যা করেছ, আমি কখনো শোধ দিতে পারব না। নাহিদা চোখ মুছে বলেন, তুই যদি সুস্থ হতি ভাই, আমার আর কোনো চাওয়া থাকত না। আবির আশাবাদী, আপা, ধৈর্য ধরো। দেখবা, আমি একদিন সুস্থ হবো। আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাকে সুস্থ করে তুলবেন।


আবির সুস্থ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের কষ্ট, দুশ্চিন্তা আর প্রার্থনার পর নাহিদার মুখে ফুটে উঠেছে এক অনাবিল হাসি। সে পাড়ার লোকজনকে ধরে ধরে বলেন, জানো, আমার ভাই সুস্থ হয়েছে! আমার কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝাতে পারব না! নাহিদার আনন্দ দেখে পাড়ার লোকেরাও খুশি। সবাই বলেন, যাক, নাহিদার কষ্ট সার্থক হয়েছে। আল্লাহ ওর দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকিয়েছেন। কেউ কেউ পরামর্শ দেন, এবার ভাইকে বিয়ে করাও, তুমিও তোমার সংসারে ফিরে যাও।

নাহিদা শান্ত গলায় উত্তর দেন, না, আমি আর আমার সংসারে ফিরে যাব না। যে স্বামী আমাকে ছেড়ে অন্য নারীকে বিয়ে করতে পারে, তার সংসারে আমি ফিরে যাব না। লোকজন চুপ হয়ে যায়। নাহিদা চোখে দৃঢ়তা নিয়ে বলেন, ভাইকে দেখাশোনা করেই আমি জীবন কাটিয়ে দেব। ও-ই তো আমার পৃথিবী!


লিমার বয়স পেরিয়ে গেছে, কিন্তু তার বিয়ে হয় না। কারণ গায়ের রঙে কালো। ছেলেপক্ষরা আসে, দেখে, কিছু না বলে ফিরে যায়। পরিবারের কাছে লিমা যেন এক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই কথা শুনে নাহিদার মন কেঁপে ওঠে। সে ভাবেন, মেয়েটাকে তো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। রঙ দিয়ে মানুষের মূল্য হয় না। আমি লিমাকে আমার ভাইয়ের বউ করব। আবিরও বোনের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানায়। সে বলে, আপা, তুমি যাকে ঠিক মনে করো, আমি তাতেই খুশি।

লিমাকে বউ করে আনার পর শুরু হয় সমাজের কটাক্ষ। কেউ বলে, বউ দেখতে সুন্দর না। এমন কালো মেয়ে কেউ ভাইয়ের জন্য আনে? পাড়া-প্রতিবেশীরা নাহিদাকে প্রশ্ন করে, তোর ভাইয়ের জন্য কি আর ভালো মেয়ে পেলি না? এমন একটা মেয়ে আনলি? নাহিদা শান্ত গলায় উত্তর দেন, সুন্দর তা চোখে নয়, মনে হয়। আমার ভাইয়ের জন্য আমি এমন একজনকে এনেছি, যার হৃদয় উজ্জ্বল। নাহিদার কথায় কেউ কেউ চুপ হয়ে যায়, কেউ মুখ ঘুরিয়ে নেয়। কিন্তু নাহিদা জানে, সে যা করেছে, তা মানবতার জন্য, ভালোবাসার জন্য।

আলোতেই এত কালো, আঁধারে তো দেখাই যাবে না এই কথাগুলো লিমার জীবনের প্রতিচ্ছবি। গায়ের রঙ কালো বলে তার বিয়ে হয়নি। ছেলেপক্ষরা দেখে, চুপচাপ ফিরে যায়। বাবা-মায়ের কাছে লিমা যেন এক বোঝা ছিলো। এখন তা থেকে মুক্তি পেলো।

লোকজন লিমাকে বোঝায়, তোমার ননদের কারণে তুমি এই সংসারে এসেছো। তাঁকে সম্মান দিও, কষ্ট দিও না।

লিমা চুপচাপ শোনে। নাহিদা ভাইয়ের বউয়ের জন্য কত কিছু করে। গাছ থেকে ফল পেড়ে দেয়, কেউ কিছু দিলে নিজে না খেয়ে ভাইয়ের জন্য নিয়ে আসে। তবে লিমার ক্ষুধা লাগলে সে খেয়ে নেয়, অপেক্ষা করে না। নাহিদা খায় না, ভাই আর ভাইয়ের বউয়ের জন্য অপেক্ষা করে।


নাহিদার চোখে জল আসে। এই সংসার, এই ভালোবাসা, এই আত্মত্যাগ—সবকিছু মিলিয়ে সে যেন এক ছায়া, যে আলো হয়ে অন্যের জীবন আলোকিত করে।

আবির তার বোন নাহিদার জন্য একটি শাড়ি কিনে এনেছে। হাতে তুলে দিয়ে বলে, আপা, তুমি এই শাড়িটা পরো। তোমার জন্যই এনেছি। নাহিদা শাড়িটা হাতে নিয়ে হাসে। ঠিক তখনই লিমা এসে বলে, দেখি, আপার জন্য কী এনেছো? বাহ! বেশ চমৎকার! তবে আপু, এই শাড়ি আপনাকে মানাবে না। আমি পড়লেই ভালো লাগবে। আবির একটু থমকে যায়। লিমা, এই শাড়িটা আমি এনেছি আমার আপার জন্য। তোমার লাগলে তোমার জন্য কিনে আনব।

লিমা তবুও বলে, আপা তো আমাকে শাড়িটা দিয়েছেন। তুমি বলছো আপাকে দিতে!

আবির রাগ চেপে বলে, এই শাড়ি আপার। দয়া করে ওটা দিও।

নাহিদা বলেন, আবির, চুপ থাক। হ্যাঁ, আমি শাড়িটা লিমাকে দিয়েছি।

বোনের কথা শুনে আবির আর কোনো কথা বলে না। তার চোখে সম্মান, আর মনে প্রশান্তি। বোনের জন্য সে সবকিছু করতে পারে, সেই বোনের সিদ্ধান্তই তার শেষ কথা।

নাহিদা রান্না শেষ করে লিমাকে ডাকলেন, লিমা, আসো সবাই একসাথে খেতে বসি। খাওয়ার সময় মাছের বড় মাথাটা নাহিদা তুলে দিলো ভাই আবিরের পাতে। আবির নিজের প্লেট থেকে তুলে দিলো বোনের প্লেটে। হঠাৎ লিমা নাহিদার প্লেট থেকে মাছের মাথাটা তুলে নিজের প্লেটে রাখে। আপু, আপনি তো খেতে পারবেন না। আপনার প্রেসার আছে, এটা খেলে প্রেসার বেড়ে যেতে পারে। তার চেয়ে আমি খাই।

নাহিদা শান্ত গলায় বললেন, ঠিক আছে লিমা, তুমি খাও। কিন্তু আবির রেগে গিয়ে বলল, তুমি এটা কি করলে?এটা আমি আপাকে দিয়েছি। তুমি তুলে আপার প্লেটে দাও।

লিমা জিদ করে মাছের মাথাটা নিজের প্লেটে রেখেই দেয়, কিন্তু খায় না। কিছুক্ষণ পর সেটা ফেলে দেয়।

নাহিদা বিস্মিত হয়ে বললেন, আহা লিমা, তুমি এটা কী করলে? না খেয়ে ফেলে দিলে কেন? লিমা রাগ করে বলল, আমাকে তো খাওয়ার জন্য দেওয়া হয়নি। আমি শুধু নিজের প্লেটে নিয়েছিলাম মাথাটা, তাতে কী বলল আপনার ভাই? শুনলেন না?

ঘরের পরিবেশ একটু থমথমে হয়ে যায়। আবির চুপ করে থাকে। নাহিদা মুখে কিছু না বললেও তাঁর চোখে একধরনের বিষণ্নতা ভেসে ওঠে। মাছের মাথা নিয়ে শুরু হয় ছোট্ট এক দ্বন্দ্ব, কিন্তু তা গড়িয়ে যায় সম্পর্কের গভীরে।

লিমা রাগ করে বলে, মাথাটা আপনাকে দিতে বলল, কিন্তু এখানে দুজন মানুষ ছিল, একজনও আমার কথা বলল না। আপনার ভাইয়ের কাছে শুধু আপনি, তার বোন। যাই কিছু হোক, সবকিছু বোনের জন্যই করতে হবে। নিজেও তো খেতে পারতো, কিন্তু না খেয়ে আপনাকে দিলো। আর আমার কথা একবারও ভাবল না। নাহিদা শান্ত গলায় বলেন, লিমা, থামো। খাওয়া নিয়ে কথা বললে লজ্জা লাগে। মানুষ শুনলে কী বলবে? লিমা তখন ঠান্ডা গলায় বলে, শুনেন আপা, আমরা যখন স্বামী-স্ত্রী খাব, তখন আপনি আসবেন না। আপনি আলাদাভাবে খেয়ে নিবেন।

নাহিদা কষ্ট চেপে বলেন, ঠিক আছে, তাই হবে লিমা।

আবির তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, এই লিমা, তুমি কী বললে? আলাদা খাবে? তুমি খেয়ে নিও, আমার বোন আর আমি একসাথে খাব। লিমা রেগে গিয়ে আরেক রুমে চলে যায়। ঘরে নেমে আসে একধরনের নিঃশব্দ অস্বস্তি। আবির চুপ, নাহিদা চুপ, শুধু মাছের মাথাটা পড়ে থাকে প্লেটে, যেটা এখন আর কারও খাওয়ার ইচ্ছা নেই।


লিমা সংসারের কোনো কাজ করতে চায় না। বলে, আমি কেন কাজ করবো? কাজ করবে আপা। সে তো আমার স্বামীরটা খাচ্ছে, পরছে। আবির এই কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তোমাকে আমি কখনোই বউ করে আনতাম না, যদি আমার আপা না চাইত। তোমার ভাগ্য ভালো, আমার আপা তোমাকে মায়া করে আমার বউ করে এনেছে। যেদিন আপা শুনল, তোমার কোথাও বিয়ে হচ্ছিল না, সেদিনই সে সিদ্ধান্ত নিল তোমাকে আমার জীবনে আনার। আবিরের কণ্ঠে অভিমান, আর সেই আপার সাথেই তুমি হিংসা করো? লিমা বলে, তোমার মুখে সারাক্ষণ ‘আপা-আপা’ শুনতে ভালো লাগে না। অথচ বউ হিসেবে আমার কোনো কদর করো না। ঘরের পরিবেশ থমকে যায়। নাহিদা দূর থেকে সব শুনে, কিন্তু কিছু বলে না। কিন্তু মনটা ভারী হয়ে ওঠে। সে ভাবেন, ভালোবাসা আর দায়িত্বের মাঝে কখনো কখনো কৃতজ্ঞতা হারিয়ে যায়। যে সম্পর্ক সে গড়তে চেয়েছিল ভালোবাসা দিয়ে, সেখানে এখন জমেছে অভিমান আর অভিযোগ।


লিমা আজ অনেক ভালো ভালো রান্না করেছে। রান্না শেষে নাহিদাকে আদর করে খাইয়ে দেয়। নাহিদা লিমার এমন ব্যবহার দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়! তাঁর চোখে প্রশান্তির ছায়া। খাওয়ার পর লিমা বলে, আপা, আপনি শুয়ে পড়েন। আমি আপনার হাত মালিশ করে দেই। নাহিদা হেসে বলেন, না লিমা, হাত-পা মালিশ করে দিতে হবে না। বরং তুমি বসো, আমি তোমার চুল বেনি করে দেই। লিমা একটু চুপ করে থাকে, তারপর বলে, না লাগবে না আপা। একটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম… বলবো?

নাহিদা কৌতূহলী হয়ে বলেন, বলো, কী বলতে চাও?

লিমা দ্বিধায়, আপনি শুনবেন না, তাই বলবো না।

নাহিদা মমতা নিয়ে বলেন, আহা, তুমি বলো? আমি শুনছি।

লিমা চোখ নামিয়ে চুপ করে থাকে। তার মনে যেন অনেক কথা, কিন্তু মুখে আসতে চায় না। নাহিদা তার পাশে বসে, মাথায় হাত রাখেন। সম্পর্কের এই মুহূর্তে কোনো শব্দের চেয়ে স্পর্শই যেন বেশি কথা বলে।

লিমা ধীরে ধীরে বলে, আপা, এই কথাটা কিন্তু আপনি আপনার ভাইয়ের কাছে বলতে পারবেন না।

নাহিদা শান্ত গলায় বলেন, ঠিক আছে, বলবো না।

লিমা হঠাৎ রূঢ় হয়ে ওঠে, আপনি বাড়ি থেকে চলে যান!

নাহিদা বিস্মিত! কী বললে লিমা?

বলছি, আপনি এই বাড়ি থেকে চলে যান। আপনি আর আপনার ভাইয়ের আহ্লাদী পানা আমি সহ্য করতে পারি না।

নাহিদা কাঁপা গলায় বলেন, আমি চলে যাব?

হ্যাঁ, আপনি চলে যাবেন। আর যদি না যান, তাহলে আমি বিষ খেয়ে মারা যাব। তখন আপনার ভাই জেল হাজতে যাবে। সেটা কি আপনি সহ্য করতে পারবেন? নাহিদা চুপ করে থাকেন। কিছুক্ষণ পর বলেন, ঠিক আছে, কিছু করতে হবে না। আমি চলে যাব।

লিমা কঠিন স্বরে বলে, চলে যাবেন, কিন্তু কাউকে কিছু জানাতে পারবেন না। কোথায় গেছেন, কেন গেছেন! কিছুই বলবেন না।

নাহিদা চোখ নামিয়ে বলেন, ঠিক আছে, তুমি যেটা চাও, সেটাই হবে। ঘরে নেমে আসে নিঃশব্দ অন্ধকার। সম্পর্কের ভার, আত্মত্যাগের সীমা, নিঃশব্দে বিদায়! সব মিলিয়ে যেন এক চাপা কান্না ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। নাহিদা কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। সকাল থেকে তাঁকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। লিমা উদ্বিগ্ন হয়ে আবিরকে বলে, এই শুনছো, আপাকে তো কোথাও দেখছি না। তুমি দেখো, কোথাও আছেন কী না। আবির চিন্তিত হয়ে বলে, কী বলো! 

লিমা বলে, না দেখেই তোমাকে বলছি। আপা নেই।

আবির হতভম্ব হয়ে পড়ে। হায় হায়, বলো কী! আপা কোথায় গেল? সে পাগলের মতো খুঁজতে থাকে, ঘরের কোণ, উঠান, আশেপাশের সব জায়গায়। কিন্তু কোথাও নাহিদার কোনো খোঁজ নেই। আবির ভেঙে পড়ে, কান্নাকাটি করে বলে, আমার বোন কোথায় গেল? যে বোন নিজের সুখের দিকে তাকায়নি, শুধু আমার জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছে, সে কি এমন করে চলে যেতে পারে? ঘরে নেমে আসে অন্ধকার। নাহিদার অনুপস্থিতি যেন পুরো সংসারটাকে থমকে দিয়েছে।

নাহিদা, যিনি ভাইয়ের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে যান। তাঁর অনুপস্থিতি যেন পুরো সংসারটাকে থমকে দেয়।

আবির পাগলের মতো খুঁজতে থাকে, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, হাসপাতাল, মসজিদ, যেখানে সম্ভব, সেখানেই। কিন্তু কোথাও তার বোনের কোনো খোঁজ নেই। আবির কাঁদতে কাঁদতে বলে, আপা, তুমি কোথায় গেলে? ফিরে এসো… আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারছি না। তুমি তো আমার সব! 

লিমা স্বামী আবিরের পাশে দাঁড়িয়ে। তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, তুমি না খেলে কি চলবে? তোমার বোনকে তো তোমার খুঁজে পেতে হবে। সে আমাদের জন্য কত কিছু করেছে, আজ তাঁকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের। 

নাহিদা চলে যাওয়ার পর আবিরের শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ, শুধু একটাই প্রশ্ন তার মনে আমার বোন কোথায়? আবির কাঁপা গলায় বলে, আমি যে কষ্ট পাচ্ছি, আমার বোন কি তা টের পাচ্ছে না? যে আপা আমার জন্য এত কিছু করলো, সে আমাকে রেখে কোথায় চলে গেল? নাহিদা শুধু একজন বোন নয়, সে ছিল এই সংসারের আত্মা। আবির বিছানায়, চোখ মেলে তাকাতে পারে না। তবুও চোখ তুলে বলে, আমি তোর ভাই, আপা… ফিরে আয়… আমি তোকে ছাড়া বড় অসহায়। তার কণ্ঠে এমন আকুতি, যেন প্রতিটি শব্দে কান্না মিশে আছে। ঘরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নাহিদার অনুপস্থিতি যেন পুরো সংসারটার প্রাণ হারিয়ে গেছে।

শেয়ার করুন:
কাব্যকলি

শব্দের ক্যানভাসে আঁকি অনন্তের ছবি...